২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান

ডেস্ক রিপোর্ট:: নড়াইলের আলোকদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে বসেই চলছে পাঠদান। কখনও লাইব্রেরি আবার কখনও স্কুলের বারান্দায়ও ক্লাস নিতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা, প্রয়োজনীয় ক্লাস কক্ষ এবং বেঞ্চের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে এ বিদ্যালয়ের পাঠদান। ৫০ বছরের প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টিতে সরকারিভাবে কোনো ভবন নির্মিত হয়নি। পায়নি প্রয়োজনীয় কোনো বরাদ্দ। শিক্ষার্থীদের বেতন, স্থানীয় ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদ ও শিক্ষকদের অনুদান ও চাঁদায় বিদ্যালয়ের ভবনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নে আলোকদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ২৫০ জন। বিদ্যালয়ে এসএসসি এবং জেএসসি পরীক্ষার ফল খুবই ভালো। ২০১৭ সালে আইসিটি ব্যবহার বিষয়ে নড়াইল জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের তিনতলা পাকা ও টিনসেড দুটি ভবন রয়েছে। তিনতলা ভবনে ৬টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি ক্লাস কক্ষ, ১টি কম্পিউটার ল্যাব এবং ১টি লাইব্রেরি। এছাড়া টিনসেডে দুটি ক্লাস কক্ষ এবং শিক্ষক মিলনায়তন। তিনতলা ভবনটি দেশ স্বাধীনের পর স্থানীয়ভাবে নির্মাণ করা হয়। এ ভবনটি এখন জরাজীর্ণ। দোতলার ছাদের রডে মরিচা পড়ে গেছে। কয়েক জায়গায় রডে মরিচা পড়ে ছাদ ছিদ্র হয়ে গেছে। টিনসেড দিয়ে বৃষ্টি হলে পানি পড়ে।

স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী অর্পিতা দে ও নুসরাত জামান রিুতু জানায়, কক্ষের অভাবে অনেক সময় ঠিকমতো ক্লাস হয় না। বৃষ্টি হলে টিনসেড কক্ষ দিয়ে পানি পড়ে। তখন বই-খাতা ভিজে যায়। ফলে ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়।

নবম শ্রেণির ছাত্র মো. আওসান হাবিব ও ৮ম শ্রেণির ছাত্র মুরসালিন ইসলাম জানায়, ক্লাস রুমের বেঞ্চের অভাবে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস হয়। এ সময় শিক্ষকদের ক্লাস সম্পর্কিত বক্তব্য খাতায় লিখতে কষ্ট হয়। অনেক সময় লাইব্রেরি এবং বারান্দায়ও ক্লাস চলে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন মল্লিক বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সময় আবেদন-নিবেদন করার পরও কোনো সরকারি ভবন নির্মিত হয়নি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময় ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষকরা চাঁদা তুলে নতুন বেঞ্চ তৈরি এবং মেরামত করে থাকে। এবারও স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র কেনার চেষ্টা চলছে।