২৭শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে হবে ১৯ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়

ডেস্ক রিপোর্ট» মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) আওতায় রাজধানীর পাশাবর্তী এলাকা এবং কয়েকটি বিভাগীয় শহরে ১৯টি মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। এসব বিদ্যালয় তৈরিতে আলাদা দুটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ বাবদ ৮৩৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও অপরটির অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে মাউশি সূত্র।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বিভাগীয় শহরে সরকারি ৯টি মডেল বিদ্যালয় তৈরি করা হবে। এ বাবদ ৪৩৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এ দুই প্রকল্পের আওতায় নতুন করে ১৯টি বিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। দেশের চারটি বিভাগীয় শহরের মধ্যে রাজশাহী জেলায় দুটি, রংপুর জেলায় দুটি চট্টগাম জেলায় দুটি, ময়মনসিংহে একটি এবং জয়পুরহাট ও শ্রীমঙ্গল চা বাগান এলাকায় একটি করে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। আধুনিক ভৌত অবকাঠামো সুবিধাদি এবং যুগোপযোগী শিক্ষা সামগ্রীর সমন্বয়ে এসব বিদ্যালয়গুলো গড়ে তোলা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৯ বিদ্যালয় প্রকল্পের প্রতিটি স্কুলে আধুনিক ভবন, আইসিটি ল্যাব, সাইন্স ল্যাব, লাইব্রেরি, ইন্টারনেট সুবিধাসহ ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও কম্পিউটার সামগ্রী, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, বই-পুস্তুক, খেলাধুলার সরঞ্জাম, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, রাস্তা নির্মাণ করা হবে। তিন বছর মেয়াদি ‘৯টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন’প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০৩ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রাথমিক পর্যায়ের সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আগামী একমাসের মধ্যে এটি একনেকের চূড়ান্ত সভায় তোলা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের যে সব স্থানে সরকারি বিদ্যালয় সঙ্কট রয়েছে সে সব জেলা সদরে নতুন করে ৯টি বিদ্যালয় তৈরি করতে এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একনেকের প্রাথমিক পর্যায়ের সভায় এটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে একনেকের চূড়ান্ত সভায় বাজেট পাস হলে প্রকল্প পরিচালকসহ জনবল নিয়োগ দেয়া হবে।’ এরপর প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষাদান কার্যক্রমকে আধুনিক করা ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে রাজধানী ঢাকার আশপাশের এলাকায় ১০টি মডেল বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একনেকে অনুমোদনের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) আওতায় ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য দুই একর করে জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ভবন তৈরির কাজ শুরু হবে।

প্রকল্প সংশ্লিরা জানিয়েছেন, রাজধানীর আশপাশের এ ১০টি মডেল বিদ্যালয় পুরোপুরি চালু হলে প্রতিটি বিদ্যালয়ে চার শিফটে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দুই হাজার ৭০০ জন করে মোট ২৭ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। এতে স্থানীয় জনগণের চাহিদা পূরণ ছাড়াও রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের চাপ কমবে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে যা বোঝায় তারই মডেল হিসেবে ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের কাজ চলছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়গুলো স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন হয়েছে। ’

জানা গেছে, বিদ্যালয় ১০টি ঢাকার নবীনগরের পাথালিয়া, আশুলিয়ার বাইপাইল, ধামরাই উপজেলার গাওয়াইল, হোমায়েতপুরের বিলামালিয়া, জোয়ারসাহারা, সাতারকুল ও কেরানীগঞ্জের পশ্চিমদী।

নারায়ণগঞ্জ জেলার পূর্বাচলের ১৭ নম্বর প্লট, সাইনবোর্ড এলাকার জালকুড়ী এবং চিটাগাং রোডের খোদ্দঘোষপাড়া এলাকায় স্থাপন করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয় ভবন হবে ১০ তলা। বিদ্যালয় এলাকার ভেতরেই থাকবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের আবাসিক ভবন। এ ছাড়া স্কুলে শিক্ষার্থীদের থাকবে পৃথক কমন রুম। থাকবে খেলার মাঠ ও লাইব্রেরি কক্ষ। প্রতিটি বিদ্যালয়েই নির্মাণ করা হবে একটি করে শহীদ মিনার। স্কুলের জন্য থাকবে নির্দিষ্ট রাস্তা ও ফুলের বাগান।

এ ছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয়ে থাকবেন একজন প্রধান শিক্ষক, দু’জন সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ১০৮ জন সহকারী শিক্ষক। বিদ্যালয়গুলোতে থাকবে আইসিটি, জীববিজ্ঞান, রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞানের পৃথক ল্যাবরেটরি। এগুলোর জন্য থাকবেন পৃথক ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট। প্রতিটি বিদ্যালয়ে দু’জন স্টুডেন্ট কাউন্সিলর এবং একজন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাও নিয়োগ করা হবে। বিদ্যালয়গুলোতে মোট ১৬২ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন।

প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যস্ত। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৩ কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের জন্য দুই একর করে জমি বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা আর ভূমি উন্নয়ন বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি চার লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া আসবাবপত্রসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে চার কোটি ৪৪ লাখ টাকা।