১২ই এপ্রিল, ২০২৪ ইং, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ


দেশীয় শিল্পের ওপর গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট>>শুধু গবেষণা নয়, মানসম্মত গবেষণা করতে হবে। দেশীয় শিল্পের ওপর গবেষণা বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের কল্যাণ বয়ে আনবে। এ জন্য দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক স্থাপন জরুরি বলে মনে করেন গবেষকরা।

সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইস) আয়োজিত শিক্ষাখাতে উচ্চতর গবেষণা সহায়তা কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে দেশীয় শিল্পের গবেষণা বাড়াতে হবে। প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয়তা বাড়াতে হবে। এতে উভয়ে উপকৃত হবে। এতে করে দেশের সুনাম বাড়বে।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক হতে হলে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রয়োজন। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা সাক্ষর না থাকলেও উভয়ের মধ্যে ল্যাব ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তবেই স্বল্প খরচে উন্নতমানের গবেষণা কার্যক্রম করা সম্ভব। টেকসই গবেষণার জন্য মেগা প্রকল্প তৈরি করতে হবে।

বর্তমানে আমাদের ছেলেমেয়েরা ইংরেজিতে খারাপ। কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো গবেষণা করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন বলেও দাবি তোলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মানে ডিগ্রি অর্জন নয়, সেখানে গবেষণা করা, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা প্রয়োজন। গবেষণার জন্য বয়স কোনো বিষয় নয়, কেউ যদি ভালো গবেষণা করেন তবে তাদের চাকরির পরও এ কাজে সুযোগ দেয়া হবে।

তিনি বলেন, আপনারা (গবেষকরা) গবেষণা চালিয়ে যান, আমরা পর্যাপ্ত অর্থ দিয়ে যাবে। আমাদের অর্থের সংকট নেই। এ টাকা দিয়ে আমরা বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারবো না। দেশে উন্নতমানের গবেষক সৃষ্টির আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ২০১০-১৩ সাল পর্যন্ত সম্পাদিত ৩৩টি গবেষণা সংক্রান্ত একটি বই প্রকাশ হয়। এসব গবেষণায় গাণিতিক বিজ্ঞান, জীবন সম্পর্কিত বিজ্ঞান, ভৌত বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, আইসিটি, মেরিন সাইন্স এবং ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক গবেষণা কার্যক্রম করা হয়। ২০০৮ সালে শিক্ষাখাতে উচ্চতর গবেষণায় সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আওতায় প্রতি বছর গবেষণকদের গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। যার উদ্দেশ হলো প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ গড়ে তোলা। এসব গবেষণা মূল্যায়নে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট প্রাথমিক বাছাই কমিটি কাজ করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠান বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন, এ কর্মসূচির সভাপতি মেজবা উদ্দিন আহমেদ, ব্যানবেইজের পরিচালক মো. ফসিউল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুলাহ আল হাসান চৌধুরী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রমুখ।