২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রকে নিজের প্রস্রাব খেতে বাধ্য করেন প্রধান শিক্ষক

ডেস্ক রিপোর্ট» ত্রিশাল উপজেলার ভাটিদাস পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলমের অশোভন আচরণ ও এক স্কুল ছাত্রকে অমানবিক অপমানের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন একই স্কুলের ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক শরীফা খাতুন।

মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান শরীফা খাতুন। মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে আলটিমেটাম দিয়ে বলা হয়, আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে দায়ী প্রধান শিক্ষকের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আমরণ অনশনে যাবেন শরীফা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলমের বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন প্রতিকার মেলেনি। উল্টো প্রধান শিক্ষকের বিচার চাওয়ার জেরে শরীফাকে হুমকি ধমকিসহ পদে পদে হয়রানি ও অপমান অপদস্থ হতে হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই স্কুলের ছাদে প্রস্রাব করায় পঞ্চম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রকে সেই প্রস্রাব চেটে খেতে বাধ্য করান ত্রিশাল উপজেলার ভাটিদাস পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম। ঘটনা জানাজানি হওয়ার এক মাস পর গঠিত তদন্ত কমিটি অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে একদিনে তদন্ত করে। তদন্ত পর ওই দিনই নাম মাত্র তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্কুলে এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি বলে দাবি করা হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক শরীফা খাতুন। এর জেরে প্রথমে শরীফাকে ক্লাস থেকে বাধ্যতামূলক বিরত রাখা হয়। বন্ধ রাখা হয়েছে বেতন ভাতাদি। এ নিয়ে শরীফা জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তথ্য প্রমাণাদিসহ লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর থেকে মেরে ফেলার হুমকিসহ নানাভাবে অপমান অপদস্থ করেন প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রভাবশালী সদস্যরা। জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্মকর্তারাও এ ব্যাপারে কোন সাড়া দেননি। ফলে এসময় ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে শরীফা খাতুন ও তার পরিবারের সদস্য, স্বজনসহ মানবাধিকার কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের পর ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনও করেন তারা। সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে স্থানীয় মানবাধিকার নেত্রী মাফরুফা মিমি উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের মঙ্গলবার জানান, এই ঘটনায় দায়ী প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ও সহকারী শিক্ষক শরীফাকে অন্যত্র বদলির প্রক্রিয়া চলছে।

বখাটেকে ধরে বিচারকের কাছে নিল কলেজছাত্রী