২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


পিটিয়ে শিক্ষকের হাত-পা ভেঙ্গে দিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতিপ্রার্থী

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাজিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে একই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদপ্রার্থী ও সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুর রহমান ফর্সা।

একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক তারিকুজ্জামান ছোটন জানান, সাজিমারা গ্রামের বাসিন্দা হামিদুর রহমান ফর্সা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ কারণে হামিদুর রহমান নিজের ছেলে পরিচয় দিয়ে রাফিউল ইসলাম রাফি নামে এক শিশুকে স্কুলে ভর্তি করেন। কিন্তু হামিদুর রহমানের প্রতিপক্ষরা প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা বীনার কাছে অভিয়োগ করেন স্কুলছাত্র রাফিউল ইসলাম রাফি হাফিজুর রহমান ফর্সার সন্তান না। রাফি একই গ্রামের হাবিবুর রহমান বইতুল্লাহর ছেলে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা বীনা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তারের কাছে একটি প্রত্যয়নপত্র চান। ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার তার প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন- স্কুলছাত্র রাফিউল ইসলাম রাফির বাবার নাম হামিদুর রহমান ফর্সা নাম দিয়ে যে জন্ম সনদটি দাখিল করেছেন সেটি ভূয়া। চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে স্কুলে একটি ভূয়া জন্ম সনদ দাখিল করা হয়েছে। স্কুলছাত্র রাফির বাবার নাম হাবিবুর রহমান বইতুল্লাহর।

এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা বিনার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা বীনাকে স্কুলের একটি কক্ষে নিয়ে তালাবদ্ধ করে বেদম প্রহার করে হামিদুর রহমান। পরে অন্য শিক্ষক ও গ্রামবাসী প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা বীনা বকশীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অরুণা রায় জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। কতৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিলক্ষিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে একজন শিক্ষিকাকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়ার অপরাধে হামিদুর রহমান ফর্সার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।