১৬ই জুলাই, ২০২০ ইং, ১লা শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


ফেনীতে টানা বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটু পরিমান পানি, জনজীবন বিপর্যস্থ

শহর প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারনে ফেনীতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। দুদিনের টানা বৃষ্টিতে ফেনীতে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। শহরের সড়ক গুলোতে হাঁটু পরিমান পানি উঠতে দেখা যায়। টানা ভারী বর্ষণে ফেনী শহরে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষজনকে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফেনী আবহাওয়া অফিস শনিবার সকাল পর্যন্ত ৭২ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বলে জানায়।

শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে শনিবার পর্যন্ত টানা বর্ষনের কারনে শহরের রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় অনেকটা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বাসীন্ধারা।

বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দোকানপাঠ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। স্কুল, কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদেরও পোহাতে হয়েছে চরম দুর্ভোগ। এই অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার মানুষজনকে বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছে। সিএনজি অটোরিক্সা গুলো আটকা পড়তে দেখা যায়।

শহর ঘুরে দেখা যায়, শহরের শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, নাজির রোড, মিজান রোড, একাডেমি রোড, শান্তি কোম্পানী রোড, ছুফি ছদর উদ্দিন রোড, রামপুর, ডাক্তারপাডা, উকিলপাড়া, মাস্টারপাড়া, পেট্রোবাংলা, পুলিশ কোয়ার্টার, পাঠানবাড়ী রোড সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এছাড়া এসএসকে সড়কের ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন অফিস, মুহুরী সেচ প্রকল্প অফিস ও বাংলোতে হাটুর উপরে পানি। এইসব এলাকার বাসা বাড়ি ও দোকানে পানি প্রবেশ করে আসবাবপত্র ডুবে গেছে।

ভোক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, পৌরসভার উদাসীনতার কারণেই এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

পৌরসভার কর্মকর্তারা নিয়মিত ড্রেনগুলো পরিষ্কার ও অবৈধ দখলদার মুক্ত করলে এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। শান্তি কোম্পানী রোড এলাকার কাশেম কমিশনার বাড়ির আবুল হাশেম জানান, তিনি জীবনে এতো জলাবদ্ধতা দেখেননি। বৃষ্টিতে তার বাসায় হাঁটু পরিমাণ পানি উঠে গেছে৷ এতে তার মূল্যবান আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থার জন্য পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন তিনি। বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ওমর ফারুক জানান, বৃষ্টি শুরু হলে জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা প্রতি বছরই হয়। দুর্ভোগও পিছু ছাড়ে না।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোঃ মামুনুর রশিদ জানান, ফেনীতে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৭২ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।