২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ


রাবিতে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছে না হাফেজ

ক্যাম্পাস ডেস্ক» রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছে না মেধাবী ছাত্র হাফেজ সওদাগর। অভাব-অনটনের সংসারে পড়ালেখা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ২৩৭তম ও ‘ই’ ইউনিটে ৩০২তম স্থান অর্জন করেছে সে। এখন টাকার অভাবে তার ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এসএসসি ও এইচএসসি দুটিতেই তার জিপিএ-৫। অভাবের কারণে খরচ চালাতে না পেরে তার বাবা পড়ালেখা বন্ধ করেই দিতে চেয়েছিলেন। তবুও দমে যায়নি হাফেজ। অন্যের বাড়িতে ছাত্র পড়িয়ে নিজেই এতদূর পর্যন্ত এসেছে। এখন স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া গ্রামের হরমুজ সওদাগরের দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে হাফেজ তৃতীয়। সে স্থানীয় কালিয়া কান্দাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এইচএসসি পরীক্ষাতেও সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পায়।

অভাবের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবাও অসুস্থ। শারীরিকভাবে অক্ষম তিনিও এখন কাজ করতে পারেন না। তাই সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়ালেখার খরচ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে তার ভর্তি শুরু।

হাফেজের বাবা হরমুজ সওদাগর বলেন, ইচ্ছে ছিল ছেলেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবো। নিজেই এখন কাজ করতে পারি না। ছেলের পড়ালেখার খরচ যোগাবো কীভাবে? কী করবো ভেবে পাচ্ছি না। সমাজের সামর্থ্যবানদের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় দেখছি না।

কালিয়া কান্দাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ছেলেটা খুবই মেধাবী ছাত্র। স্কুলে নিয়মিত ছিল সে। স্কুল থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল তার জন্য। পড়ালেখার ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ তাকে সবধরনের সহযোগিতা করেছে।

হাফেজের চাচাতো ভাই জহুরুল ইসলাম বলেন, হাফেজ মেধাবী ছাত্র। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি তার প্রচণ্ড ঝোক। তার আচার-ব্যবহারও খুব ভালো। কষ্ট করে পড়ে এতদূর এসেছে সে।

হাফেজ বলেন, স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু টাকার অভাবে এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারিনি। বিভাগ বদল করে মানবিকে ভর্তি হতে হয়েছিল। তবুও স্বপ্ন ছিল ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু অর্থাভাবে শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পেরেছি। সুযোগও হয়েছে। এখন সে স্বপ্নও কি পূরণ হবে না আমার?